ভার্টিক্যাল মনিটর ব্যবহারকারীদের জন্য ৮ পরামর্শ
আমাদের বেশিরভাগ ডিজিটাল ডকুমেন্ট লম্বা বা ভার্টিক্যাল লে-আউটে লেখা থাকে। কিন্তু মনিটরগুলো সাধারণত অনুভূমিক। ফলে পুরো ডকুমেন্ট একসাথে দেখা যায় না এবং ক্রমাগত স্ক্রল করতে হয়। অনেকেই সমস্যা এড়াতে দুটি মনিটর ব্যবহার করেন বা বড় স্ক্রিন কিনে থাকেন। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মনিটরকে ঘুরিয়ে লম্বাভাবে বসানো।
সচরাচর পিসি মনিটরকে লম্বাভাবে বসানো সম্ভব, এবং উইন্ডোজ বা ম্যাকওএসে পোর্ট্রেট মোড ব্যবহার করা যায়। এতে অ্যাপস ও ওয়েবসাইটসহ সব কন্টেন্ট লম্বাভাবে দেখা যায়। প্রোগ্রামার বা অফিসের কর্মচারীদের জন্য এটি খুব উপযোগী। পুরো ডকুমেন্ট একসাথে দেখা যায়, স্ক্রল কমে যায়, এবং তথ্যপূর্ণ ড্যাশবোর্ড আরও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যায়। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
ভালো স্ট্যান্ড ব্যবহার করুন
মনিটর ঘুরানোর আগে যাচাই করুন যে স্ট্যান্ডে পিভট ফাংশন আছে কি না। না থাকলে ভেসা মাউন্ট কিনে মনিটরকে যে কোনো উচ্চতা ও কোণে বসানো যায়। পিভটিং স্ট্যান্ড অবশ্যই মজবুত হতে হবে, কারণ পুরো মনিটরের ওজন বহন করতে হবে।

সঠিক উচ্চতায় বসান
লম্বা মনিটরে চোখের উচ্চতার সাথে মনিটরের উপরের অংশ মেলানো জরুরি। কেন্দ্রভিত্তিক স্থাপন করলে ঘাড় বেশি নড়াচড়া করতে হয়। ভেসা আর্ম ব্যবহার করলে সহজে উচ্চতা ঠিক করা যায়।

সঠিক মনিটর নির্বাচন করুন
সব মনিটর লম্বা অবস্থায় ঠিকভাবে কাজ করে না। আইপিএস প্যানেলসহ মনিটর ভালো, যাতে দেখার কোণ বেশি এবং রঙ ঠিক থাকে। উচ্চ রেজোলিউশনের মনিটর ব্যবহার করলে আরও বেশি টেক্সট একসাথে দেখা যায়।

দুই স্ক্রিন ব্যবহার করুন
লম্বা স্ক্রিনে প্রোগ্রামিং বা লিখতে সুবিধা থাকলেও ভিডিও বা গেমিংয়ে সমস্যা হয়। সেরা সমাধান হলো এক অনুভূমিক ও এক লম্বা স্ক্রিন। প্রধান স্ক্রিনে অ্যাপ চলতে থাকে, তথ্যপূর্ণ কাজ লম্বাভাবে করা যায়।

ক্যাবল ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখুন
লম্বাভাবে মনিটর বসালে তারগুলোর অবস্থান ও দৈর্ঘ্য ঠিক রাখতে হবে। সঠিক দিক নির্বাচন ও যথেষ্ট লম্বা তার ব্যবহার করা প্রয়োজন। জিপ টাই বা হোল্ডার ক্লিপ ব্যবহার করে তারগুলো সুন্দরভাবে সাজাতে পারেন।

সফটওয়্যার সমর্থন যাচাই করুন
সফটওয়্যার পোর্ট্রেট মোড সমর্থন করে কিনা পরীক্ষা করুন। ওয়েব ব্রাউজারগুলো সাধারণত ঠিক কাজ করে, কিন্তু কিছু অ্যাপ বা ওয়েবসাইট সমস্যা করতে পারে। আগে পরীক্ষামূলকভাবে লম্বাভাবে ব্যবহার করে দেখুন।

পুরো স্ক্রিন শেয়ার করবেন না
স্ক্রিন শেয়ার করার সময় লম্বা মনিটর সমস্যা তৈরি করে। ছবি ক্রপ হয় বা ব্ল্যাক বার দেখা দেয়। তাই লম্বা স্ক্রিন মূল স্ক্রিন হিসেবে নয়, সেকেন্ডারি স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত বড় মনিটর এড়িয়ে চলুন
লম্বা খুব বড় স্ক্রিন ব্যবহার করলে ঘাড় বেশি নড়াচড়া করতে হয়। ২৪-২৭ ইঞ্চি মনিটর পোর্ট্রেট মোডের জন্য আদর্শ।

লম্বা মনিটর ব্যবহার করলে টেক্সট এবং তথ্য ঘন মনিটর সহজে দেখা যায়। তবে স্ট্যান্ড, উচ্চতা, মনিটর কোয়ালিটি এবং সফটওয়্যার সমর্থন ঠিক রাখতে হবে।
সূত্র : বিজিআর