অনলাইনে নিরাপদ থাকতে শিখুন ফিশিং প্রতিরোধের কৌশল
অনলাইনে প্রতারণার অন্যতম বড় কৌশল হলো ফিশিং। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ ভুয়া ই-মেইল, এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সন্দেহজনক কোনো ফিশিং বার্তা পেলে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো সেটিতে ক্লিক না করা। লিংক খোলা, ফাইল ডাউনলোড বা উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। একটি ক্লিকেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে বা ডিভাইসে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকে যেতে পারে।
এমন বার্তা পেলে সবচেয়ে ভালো কাজ হলো রিপোর্ট করা। রিপোর্ট করলে ভুয়া ওয়েবসাইট বন্ধ করা, প্রতারণামূলক ডোমেইন শনাক্ত করা এবং অন্য ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। ই-মেইল সেবা প্রতিষ্ঠান অথবা যে ব্র্যান্ডের নামে প্রতারণা হচ্ছে বা দেশের সাইবার অপরাধ দপ্তরে এসব বার্তা জানানো যায়।
ই-মেইল ফিশিং রিপোর্ট
ফিশিং ই-মেইল এখনো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রতারণার মাধ্যম। অনেক ই-মেইল সেবায় ফিল্টার থাকলেও সব সময় তা সব বার্তা ধরতে পারে না। তাই সন্দেহজনক ই-মেইল নিজে থেকেই রিপোর্ট করা জরুরি।
জিমেইলে ইনবক্সে সন্দেহজনক বার্তা খুলে রিপ্লাই বাটনের পাশের তিন ডট চিহ্নে চাপ দিন। এরপর রিপোর্ট ফিশিং অপশন নির্বাচন করে নিশ্চিত করুন।
আউটলুকে বার্তা নির্বাচন করে টুলবারে রিপোর্ট বাটনে চাপ দিন। এরপর রিপোর্ট অ্যান্ড ব্লক নির্বাচন করুন।
অ্যাপল মেইলে সরাসরি ফিশিং রিপোর্টের অপশন নেই। বার্তার ওপর চাপ দিয়ে মুভ টু জাঙ্ক নির্বাচন করলে ভবিষ্যতের বার্তা জাঙ্কে যাবে।
এসএমএস ও কল ফিশিং
এসএমএসভিত্তিক প্রতারণাকে স্মিশিং বলা হয়। ফোনকলের মাধ্যমে প্রতারণাকে বলা হয় ভিশিং।আইফোনে মেসেজ সোয়াইপ করে ডিলিট আইকনে চাপ দিন। এরপর ডিলিট অ্যান্ড রিপোর্ট স্প্যাম নির্বাচন করুন।অ্যান্ড্রয়েডে মেসেজ ধরে রেখে ব্লক অপশন বেছে নিন। রিপোর্ট অ্যাজ স্প্যাম নির্বাচন করে নিশ্চিত করুন। প্রতারণামূলক কল হলে দেশের সাইবার অপরাধ দপ্তরে জানানো উচিত।
ভুয়া ওয়েবসাইট রিপোর্ট
ফিশিং ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের লগইন তথ্য বা আর্থিক তথ্য নেওয়ার জন্য তৈরি হয়। এসব ওয়েবসাইট সার্চ ফলাফল বা সামাজিক মাধ্যমে দেখা যেতে পারে। সন্দেহজনক ওয়েবসাইট সার্চ প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করলে অন্যরা সতর্কতা পায়।
ব্র্যান্ডের ছদ্মবেশে প্রতারণা
কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণা হলে সেই প্রতিষ্ঠানে সরাসরি রিপোর্ট করা উচিত। তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাধারণত রিপোর্ট করার নির্দেশনা থাকে।
ভুল করে লিংকে ক্লিক করলে
ভুল করে ফিশিং লিংকে ঢুকে গেলে দ্রুত পাসওয়ার্ড বদলান। ই-মেইলসহ গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই ধাপ যাচাই চালু করুন। আর্থিক তথ্য দিলে ব্যাংক বা কার্ড কর্তৃপক্ষকে জানান। ডিভাইসে অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে পূর্ণ স্ক্যান চালান। নিয়মিত অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করুন।
ভবিষ্যতে সুরক্ষার কৌশল
সন্দেহজনক বার্তার লিংকে ক্লিক করবেন না। অচেনা সংযুক্তি খুলবেন না। প্রয়োজন হলে অন্য মাধ্যমে তথ্য যাচাই করুন। ফিশিং কৌশল সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং নিরাপদ ওয়েবসাইট চেনার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ফিশিং রিপোর্ট করা শুধু নিজের নিরাপত্তার জন্য নয়। এটি অন্যদেরও সুরক্ষিত রাখে। একটি রিপোর্টই বন্ধ করতে পারে বড় প্রতারণা চক্র।
সূত্র : এক্সপ্রেস ভিপিএন