ইউটিউবে বাড়ছে এআই দিয়ে বানানো নিম্নমানের ভিডিও

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০২

ইউটিউবে বাড়ছে এআই দিয়ে বানানো নিম্নমানের ভিডিও
ছবি : সংগৃহীত

ইউটিউবে নতুন অ্যাকাউন্ট খুললেই যে ভিডিওগুলো অ্যালগরিদম সামনে তুলে ধরছে, তার বড় একটি অংশ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্ট। এসব ভিডিওর উদ্দেশ্য মূলত অল্প সময়ে বেশি দর্শক টানা এবং বিজ্ঞাপন থেকে আয় নিশ্চিত করা।

ভিডিও সম্পাদনা প্ল্যাটফর্ম ক্যাপউইংয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সুপারিশ করা ভিডিওগুলোর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই এ ধরনের কনটেন্ট। জনপ্রিয় ১৫ হাজার ইউটিউব চ্যানেল বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অন্তত ২৭৮টি চ্যানেল পুরোপুরি এআই নির্ভর নিম্নমানের ভিডিও প্রকাশ করছে। অনলাইন জগতে এসব ভিডিও ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত।

গবেষণার অংশ হিসেবে ক্যাপউইং একটি নতুন ইউটিউব অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পর্যবেক্ষণ চালায়। সেখানে অ্যালগরিদমের সুপারিশ করা প্রথম ৫০০ ভিডিওর মধ্যে ১০৪টিই ছিল এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্ট। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ভিডিওগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশকে ‘ব্রেইনরট’ ধরনের ভিডিও হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মূলত অস্বাভাবিক উপস্থাপনা ও অতিরঞ্জিত দৃশ্যের মাধ্যমে দ্রুত মনোযোগ কাড়ে।

ক্যাপউইংয়ের তথ্যমতে, এসব চ্যানেল নির্দিষ্ট কোনো দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকলেও এসব ভিডিওর দর্শক আন্তর্জাতিক পরিসরের। উদাহরণ হিসেবে স্পেনে এআই নির্ভর ট্রেন্ডিং চ্যানেলগুলোর অনুসারী সংখ্যা প্রায় দুই কোটি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ।

প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা গবেষক রোহিনী লক্ষ্মণ বলেন, এসব ভিডিওতে নির্দিষ্ট গল্প বা গভীর বার্তা না থাকায় ভাষা ও সংস্কৃতির বাধা খুব একটা কাজ করে না। উদ্ভট কল্পনা ও চরম অতিরঞ্জনের কারণে এগুলো সহজেই নতুন দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এ বিষয়ে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেনারেটিভ এআই নিজে কোনো সমস্যা নয়, এটি একটি প্রযুক্তিগত উপকরণ মাত্র। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেমন ভালো কনটেন্ট তৈরি করা যায়, তেমনি নিম্নমানের কনটেন্টও তৈরি সম্ভব। ইউটিউবের এক মুখপাত্র বলেন, প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত সব ভিডিওকে কমিউনিটি নীতিমালা মেনে চলতে হয় এবং নীতিমালা ভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট ভিডিও অপসারণ করা হয়। ইউটিউবের লক্ষ্য হলো দর্শকদের জন্য মানসম্মত কনটেন্ট নিশ্চিত করা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান