আপত্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে গ্রোকের নতুন পদক্ষেপ

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:০৯

আপত্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে গ্রোকের নতুন পদক্ষেপ
ছবি : রয়টার্স ও ওয়্যার্ড

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘গ্রোক’-এর ছবি তৈরির সুবিধা ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অর্ধ-নগ্ন ও আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগে ব্যবহারকারীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে সেবাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিচার ব্যবহারে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তবে এতে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ব্যবহৃত তাদের চ্যাটবট ‘গ্রোক’-এর ছবি সম্পাদনা সুবিধায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আগে ব্যবহারকারীরা সরাসরি গ্রোককে ছবি সম্পাদনার নির্দেশ দিতে পারতেন। এমনকি কারও ছবি পরিবর্তন করে অর্ধ-নগ্ন বা আপত্তিকর ভঙ্গিতে উপস্থাপনের ঘটনাও ঘটেছে, যা অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়াই করা হয়েছে। 

সমালোচনার মুখে গ্রোক জানিয়েছে, ছবি তৈরি ও সম্পাদনার সুবিধা কেবল অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকদের জন্য সীমিত রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা আগের মতো সহজে এই সুবিধা পাচ্ছেন না। এর ফলে আপত্তিকর ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশের প্রবণতা কিছুটা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সীমাবদ্ধতা আরোপের পরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। সামাজিক মাধ্যমের ভেতরে থাকা গ্রোক ট্যাবে সরাসরি চ্যাট করে ব্যবহারকারীরা এখনো ছবি তৈরি করতে পারছেন। পরে সেগুলো নিজেরাই পোস্ট করছেন। একই সঙ্গে আলাদা অ্যাপ হিসেবেও গ্রোক ব্যবহার করে কিছু ক্ষেত্রে বিনা খরচে ছবি তৈরির সুযোগ থাকছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে এক্সএআই গণমাধ্যমকে স্বয়ংক্রিয় বার্তায় জানায়, সম্প্রতি গ্রোক নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সঠিক নয়। সামাজিক মাধ্যম এক্স থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত সপ্তাহে ইলন মাস্ক বলেন, কেউ যদি গ্রোক ব্যবহার করে বেআইনি কনটেন্ট তৈরি করেন, তাহলে তা সরাসরি আপলোডের মতোই বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষামূলকভাবে এক প্রতিবেদক নিজের ছবিকে বিকিনি পরা ছবিতে রূপান্তর করার অনুরোধ জানালে গ্রোক তা প্রত্যাখ্যান করে। জবাবে জানায়, এই সুবিধা এখন কেবল অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের অর্ধ-নগ্ন ও আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়া আইনবিরুদ্ধ ও উদ্বেগজনক। তাদের মতে, কেবল অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকদের মধ্যে সুবিধা সীমিত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা বলেছে, এমন কনটেন্ট কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ইউরোপের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। কেউ কেউ তদন্ত শুরু করেছে। ফলে প্ল্যাটফর্মটির ওপর চাপ বাড়ছে, কীভাবে তারা অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করছে তা দেখানোর জন্য।

সূত্র : রয়টার্স

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন