‘দক্ষতা ও জ্ঞানের নতুন দুয়ার খুলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’

Staff Reporter

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫

‘দক্ষতা ও জ্ঞানের নতুন দুয়ার খুলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’
ছবি : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের শিক্ষা, কাজ ও সমাজে অংশগ্রহণের পথ দ্রুত বদলে দিচ্ছে। পড়তে বা লিখতে না জানলেও এখন প্রশ্ন করা, শেখা ও দক্ষতা অর্জন সম্ভব হচ্ছে। ভয়েসভিত্তিক প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করছে এক নীরব বিপ্লব, যা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে সাক্ষরতার অর্থ।

ভারতের ভোক্তাপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান নিতিন পারাঞ্জপে বলেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শত বছরের পুরোনো সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে যেখানে সাক্ষরতাকেই উন্নয়ন ও সুযোগের প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হতো।’

শনিবার ভারতের চেন্নাই শহরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় সাধারণ মানুষের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নিতিন জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন এক নীরব পরিবর্তন আনছে যেখানে প্রথমবারের মতো জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়া বা লেখা জানা অপরিহার্য নয়। ভয়েসভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ এখন সহজেই প্রশ্ন করতে পারছে, নতুন দক্ষতা শিখছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।

তার মতে, কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার সমন্বয় সাক্ষরতার অর্থকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। ফলে প্রযুক্তি ও জ্ঞানের সুযোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে দ্রুত।

তিনি উদাহরণ হিসেবে মহারাষ্ট্রের কৃষকদের কথা তুলে ধরেন। তারা ‘মহাবিস্তার’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি পরামর্শমাধ্যম ব্যবহার করে আঞ্চলিক ভাষায় ফসলের সঠিক চাষপদ্ধতি, মৌসুম নির্বাচন এবং কৃষি-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তথ্য পাচ্ছেন। এতে ইতিবাচক ফল মিলছে বলে জানান তিনি। ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই উদ্যোগ দেশজুড়ে সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ‘ভারত বিস্তার’ নামে।

নিতিন বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে একই সঙ্গে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন করছে। একদিকে এটি কবিতা রচনা করতে পারে, বিরল রোগ নিরাময়ে সহায়তা করতে পারে এবং বৃহৎ পরিসরে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। অন্যদিকে এটি বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে পারে এবং ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এটিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈপরীত্য।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, আইনগত সহায়তা এবং লক্ষ্যভিত্তিক সম্পদ বণ্টনের মতো ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জনকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।’

তার মতে, ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিকল্পনায় লেখাভিত্তিক ব্যবস্থার চেয়ে ভয়েসভিত্তিক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ইংরেজির পরিবর্তে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং ছোট বয়স থেকেই দক্ষতা ও সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বাদ পড়াই মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

টেকওয়ার্ল্ডের আপডেটেড খবর পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন